নিউরোসার্জারির দুটি দিক — মাথা ও মেরুদণ্ড, অর্থাৎ ব্রেন ও স্পাইন। এই ভিডিওতে অধ্যাপক ডাঃ আ. ফ. ম. মোমতাজুল হক একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন: ঘাড়ে ব্যথা থেকে কি হাত অবশ হতে পারে?
বয়সভেদে ঘাড়ে ব্যথার কারণ
- অল্প বয়সে তীব্র ঘাড় ব্যথা: আঘাত (ট্রমা), টিউমার, অথবা যক্ষ্মা (টিবি)-র মতো ইনফেকশন আছে কি না দেখা হয়।
- সাধারণ ঘাড় ব্যথা: মাংসপেশির খিঁচুনি, দীর্ঘক্ষণ একভাবে থাকা, অথবা ডিস্কজনিত ব্যথা।
- মধ্যবয়সে: ডিস্কের ক্ষয় — সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস বা ডিস্ক প্রলাপ্স।
- বেশি বয়সে: ডিজেনারেটিভ স্পাইন ডিজিজ — হাড়, জয়েন্ট ও ডিস্ক ক্ষয়ে যেতে থাকে।
কখন বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন
দীর্ঘদিন ঘাড় ব্যথায় ভুগছেন, ওষুধ খাচ্ছেন, ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন কিন্তু উন্নতি হচ্ছে না — তাহলে কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের কাছে আসুন। প্রধান দুটি পরীক্ষা হলো এক্স-রে ও এমআরআই; এমআরআই এখন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে করা যায়।
হ্যাঁ — ঘাড়ের সমস্যা থেকে হাত অবশ হতে পারে
যে কারণে ঘাড়ে ব্যথা — ডিস্ক প্রলাপ্স, ইনফেকশন বা টিউমার — তা ধীরে ধীরে স্পাইনাল কর্ডের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তখন হাত ও পা দুটোই, শুধু হাত, অথবা শুধু দুই পা অবশ বা দুর্বল হতে পারে। সতর্কতার লক্ষণ:
- হাত দিয়ে কিছু ধরতে বা লিখতে অসুবিধা
- বোতাম লাগাতে বা চুল আঁচড়াতে না পারা
- অবশ ভাব, অথবা হাতের শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া
এমন হলে বুঝতে হবে হাতের স্নায়ুগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে এমআরআই করুন। চাপ পাওয়া গেলে এবং তা সরিয়ে দিলে সমস্যাটি অনেক সময় সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। হাত দুর্বল হওয়ার মতো যেকোনো স্নায়বিক লক্ষণে এমআরআই অবশ্যই করতে হবে।
এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শের বিকল্প নয়।