প্রলাপ্সড লাম্বার ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক (পিএলআইডি) মানুষের খুবই প্রচলিত একটি সমস্যা। এই ভিডিওতে অধ্যাপক ডাঃ আ. ফ. ম. মোমতাজুল হক এর চিকিৎসা ব্যাখ্যা করেছেন — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে শুরু করে: ৯০–৯৫% রোগীর কোনো অপারেশন লাগে না।
১. বিশ্রাম — তবে মাত্র তিন দিন
ডিস্কে একটি চিড় ধরেছে। শরীরে কোনো ক্ষত হলে আমরা সেটিকে বিশ্রাম দিই, যাতে শরীরের নিজস্ব পুনর্গঠন ক্ষমতা তা মেরামত করতে পারে। ডিস্কের ক্ষেত্রে আসল বিশ্রাম মানে শুয়ে থাকা — বেডরেস্ট। ব্যথা নিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে প্রতিনিয়ত ক্ষতটা বাড়তে থাকে। হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথায় মাত্র তিন দিন বিশ্রাম; এর বেশি হলে মাংসপেশি দুর্বল হতে শুরু করে।
২. উপশমের জন্য ওষুধ
- ব্যথানাশক, সঙ্গে পাকস্থলী রক্ষার জন্য অ্যান্টি-আলসারেন্ট (“গ্যাসের ওষুধ”)
- মাসল রিল্যাক্স্যান্ট
- কোমর ও পায়ের ব্যথায় বহুল ব্যবহৃত ভিটামিন বি১-বি৬-বি১২ কম্বিনেশন
- ব্যথায় ঘুমের অসুবিধা হলে কখনো হালকা ঘুমের ওষুধ
এর চেয়ে বেশি কার্যকর ওষুধ পৃথিবীর কোথাও এখনো আবিষ্কার হয়নি; এগুলো সাময়িক উপশম দেয়, আর শরীর নিজে মেরামতের চেষ্টা করে।
৩. ফিজিওথেরাপি
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট মাংসপেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম, চাপ এড়ানোর কৌশল এবং আপনার জন্য সঠিক ভঙ্গি (পোশ্চার) শেখাতে পারেন।
অন্যান্য ইন্টারভেনশন
এপিডুরাল স্টেরয়েড, ওজোন থেরাপি, লেজার থেরাপি — এমন নানা চিকিৎসার কথা বলা হয়। এগুলোর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কার্যকারিতা একটি ধূসর এলাকা — রোগী ইন্টারভেনশনের কারণে ভালো হলেন নাকি বিশ্রামের কারণে, তা প্রমাণ করা কঠিন।
কখন অপারেশনের কথা ভাবা হয়
যে ৫–১০% রোগী ভালো হন না, তাঁদের এমআরআই, এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়। স্নায়বিক ঘাটতি — পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা প্রস্রাব-পায়খানার সমস্যা — থাকলে, অথবা কিডনির ওপর চাপ ফেলা ব্যথার ওষুধ খেয়েও ৩–৪ মাস ব্যথা থেকে মুক্তি না মিললে, ভেবেচিন্তে অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে অপারেশন ফলপ্রসূ হয়।
এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শের বিকল্প নয়।