সাধারণ মাথাব্যথা — মাইগ্রেন বা টেনশন-টাইপ হেডেক — খুবই প্রচলিত। কিন্তু ব্রেন টিউমারের প্রথম লক্ষণও হতে পারে মাথাব্যথা। এই ভিডিওতে অধ্যাপক ডাঃ আ. ফ. ম. মোমতাজুল হক ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে দুটির পার্থক্য বোঝা যায়।
টিউমারের মাথাব্যথার বৈশিষ্ট্য
- সাধারণত সকালের দিকে বেশি থাকে
- সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হয়
- চোখে দেখতে সমস্যা হতে পারে
- মস্তিষ্কের অন্যান্য কাজ ব্যাহত হতে পারে: শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, খেতে অসুবিধা, মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা হাঁটতে অসুবিধা
টিউমার যখন ক্রেনিয়াল নার্ভগুলোকে আক্রান্ত করে বা চাপ দেয় তখন এসব লক্ষণ দেখা দেয়। মাথাব্যথার সঙ্গে এর কোনোটি থাকলে সেটিকে আর সাধারণ মাথাব্যথা ভাবা উচিত নয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে: বমির দিকে খেয়াল রাখুন
শিশুদের টিউমার নির্ণয়ে বেশি সময় লাগে, কারণ শিশু মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখার কথা বলতে পারে না। অনেক সময় একমাত্র লক্ষণ হয় বমি। বমিনাশক ওষুধ দেওয়া হয়, কিন্তু বমি থামে না। এমন অবস্থা দুই-তিন মাস চললে মাথার এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করা উচিত। ডাক্তার এমন শিশু রোগী পেয়েছেন যার একমাত্র লক্ষণ ছিল বমি, আর পরীক্ষায় পোস্টেরিয়র ফোসায় (মাথার পেছনের অংশে) টিউমার পাওয়া গেছে।
বড়দের ক্ষেত্রে: সতর্ক সংকেত
মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, খিঁচুনি, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, চোখে দেখতে অসুবিধা বা কোনো স্নায়ুর কার্যকারিতা নষ্ট হলে তখনই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
পরীক্ষা: ভালো মানের এমআরআই
প্রথম পরীক্ষা হলো এমআরআই, যা এখন প্রতিটি জেলা শহরে (আর বিভাগীয় শহরে অবশ্যই) পাওয়া যায়। এটি অন্তত ১.৫ টেসলা মানের ভালো মেশিনে হওয়া উচিত — রোগ নির্ণয় ও নিউরোসার্জিক্যাল চিকিৎসার পরিকল্পনার জন্য এই একটি পরীক্ষাই যথেষ্ট।
এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শের বিকল্প নয়।