নিউরোসার্জারি

দাঁতের ব্যথা ভেবে ভুল করছেন? হতে পারে ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া

ইউটিউবে দেখুন ↗

এই ভিডিওতে অধ্যাপক ডাঃ আ. ফ. ম. মোমতাজুল হক এমন দুটি রোগ নিয়ে কথা বলেছেন যেখানে রক্তনালী স্নায়ুর ওপর চাপ দেয়: ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া ও হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম।

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া কী?

নিউরালজিয়া মানে স্নায়ুর ব্যথা। ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া হলো মুখে সুঁই ফোটানোর মতো তীব্র, বিদ্যুৎ-চমকের মতো (ল্যান্সিনেটিং) ব্যথা। ট্রাইজেমিনাল নার্ভ — শরীরের পঞ্চম ক্রেনিয়াল স্নায়ু, যার তিনটি শাখা — দাঁত ও মুখের পাশে স্নায়ু সরবরাহ করে। মস্তিষ্কের যেখান থেকে স্নায়ুটি বের হয়, সেখানে কোনো রক্তনালী ক্রমাগত চাপ দিলে স্নায়ুটি “শর্ট সার্কিট” হয়ে তীব্র ব্যথা তৈরি করে, যা দাঁতের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন রোগটি প্রায়ই ধরা পড়ে না

ব্যথা দাঁতে অনুভূত হয় বলে অনেকে প্রথমে দাঁতের ডাক্তারের কাছে যান। দাঁতে সামান্য ক্ষয় থাকলে সেটিকেই দায়ী ভাবা হয়, এবং একের পর এক দাঁতের চিকিৎসা নিয়েও উন্নতি হয় না — তারপর রোগী নিউরোলজিস্ট বা নিউরোসার্জনের কাছে আসেন।

চিকিৎসা

  • প্রথমে ওষুধ: কারবামাজেপিন (টেগ্রেটল) জাতীয় ওষুধে কিছুদিন ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • এমআরআই: সর্বোচ্চ ডোজেও কাজ না হলে এমআরআই করে দেখা হয় রক্তনালীটি স্নায়ুর কোথায় ও কতটা চাপ দিচ্ছে।
  • মাইক্রোভাস্কুলার ডিকম্প্রেশন (MVD): মাথার পেছনে ছোট একটি ছিদ্র করে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে রক্তনালীটি স্নায়ু থেকে সরিয়ে মাঝখানে ছোট একটি টেফলন বসিয়ে দেওয়া হয়। ৯০–৯৫% রোগী সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যান।

হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম

হেমিফেসিয়াল স্প্যাজমে মুখের এক পাশ লাফায় এবং চোখের পাতা ছোট হয়ে আসে। ব্যথা থাকে না, কিন্তু দেখতে অসুবিধা হয় এবং মানুষের সামনে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এখানে মুখের স্নায়ু (সপ্তম ক্রেনিয়াল নার্ভ) রক্তনালীর চাপে আক্রান্ত হয়, এবং একই মাইক্রোভাস্কুলার ডিকম্প্রেশন সার্জারিতে রোগী ভালো হয়ে যান।

মুখে তীব্র ব্যথা বা এক পাশে লাফানো থাকলে এবং ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া বা হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম ধরা পড়লে, সার্জারি একটি খুব ভালো সমাধান।

এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শের বিকল্প নয়।

পরামর্শের জন্য সিরিয়াল নিন

ঢাকা: শনি – বুধ · রাজশাহী: বৃহস্পতি সন্ধ্যা – শুক্র বিকাল

সিরিয়াল নিন